
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক গৃহবধূ সৌদি আরবে গিয়ে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী উপজেলার চৌমুনি ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
পারিবারিক অভাব-অনটন দূর করতে তিনি ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্থানীয় দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
একটি অডিও বার্তায় নিজের দুর্বিষহ অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, প্রায় এক মাস ধরে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না, অসুস্থ হলেও চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, “আমাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার বনানীতে অবস্থিত ‘আবির ব্রাদার্স’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং মাধবপুর উপজেলার হরিনখোলা গ্রামের দালাল জহির মিয়ার মাধ্যমে তাকে রিয়াদ পাঠানো হয়। বিদেশে পাঠানোর সময় দালাল মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রাথমিক নির্যাতনের পর ভুক্তভোগী নারীকে রিয়াদের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ দেওয়া হয়। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে নেওয়া হয়। তবে সেখানেও গত এক সপ্তাহ ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, অভাবের তাড়নায় দালালের কথায় বিশ্বাস করে স্ত্রীকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। তাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। তিনি সরকারের কাছে স্ত্রীর দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এজেন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভুক্তভোগী নারী নিজের ইচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইছেন; এতে তার কোনো দায় নেই। যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, সেটি এজেন্সির দায় বলে দাবি করেন তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ড–এর সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন