
ঢাকার সাভারে বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট মো. নবী খানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, স্থানীয় ব্যক্তি বাদল খানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালায়। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিএনপি নেতা এডভোকেট মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নবী খান জানান, রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে বাদল খানের নেতৃত্বে মো. লুৎফর খান, মামলত খান, হৃদয় খান, রকি খান, নেওয়াজ খান ও উমর খানসহ আরও ২০–২৫ জন তার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ঘরে থাকা জানালা, ওয়ারড্রোব, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে ব্যবসার নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় নবী খানের স্ত্রী মাজেদা বেগমের স্বর্ণালংকার, নাকফুল ও কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ভুক্তভোগীরা আরও দাবি করেন, হামলার সময় হৃদয় খান নামের এক ব্যক্তি কয়েকজন নারীর গলার চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। এ সময় নবী খানের ছেলে দীপু খান এবং তার চাচাতো ভাইরা হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং মারধর করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নবী খানের অভিযোগ, বাদল খান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তিনি দাবি করেন, হামলার পর ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এবং বিএনপি নেতা এডভোকেট মেহেদী হাসান ও তার কর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে বাদল খান তার লোকজন দিয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি কিছু কথিত সাংবাদিকের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশেরও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।1
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বাদল খান ও তার সহযোগীদের মধ্যে কয়েকজন অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে লুৎফর রহমান খানসহ আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তারা। স্থানীয়দের মতে, এসব ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা তদন্তে সহায়ক হতে পারে।
এ ঘটনায় নবী খান সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন