ভোলা সদর উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) এর আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে নেওয়া এই প্রকল্প স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নতকরণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কানাইনগর আন্ধির খাল এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান।
জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় কানাইনগর আন্ধির খাল থেকে মেঘনা নদীর স্লুইসগেট পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল, ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল এবং কৃষি কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের ইজিপিপি কর্মসূচি দেশের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।”
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি মাছ চাষসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেন এবং দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, ভোলা সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে এবং কৃষিকাজ সহজ হবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোলা জেলার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও গতি আসবে।
মন্তব্য করুন