
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক বাজারে জুন মাসে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৯ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। টানা কয়েকদিন ধরেই এ তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৯৭ দশমিক ৩১ ডলারে। আগের দিনগুলোর ধারাবাহিকতায় এই দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনায় স্থবিরতা তৈরি হওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো ধরনের কূটনৈতিক দরকষাকষিতে আগ্রহী নয়। সহকারী প্রেস সেক্রেটারি অলিভিয়া ওয়েলস এক বিবৃতিতে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ না দেওয়া। এই অবস্থান থেকে আপসের সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে তেলের বাজারে এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
মন্তব্য করুন