জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নাবালিকা মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বগুড়ার আদমদীঘি থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মোঃ রানা মাসুদ। শুক্রবার (১৫ মে) বেলা ১১টায় পাঁচবিবি উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রানা মাসুদ। তিনি জানান, গত ১ মে তার নাবালিকা মেয়ে তাসনিয়া অপহরণের শিকার হয়। এ ঘটনায় তিনি বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সেনা সদস্য রেজাউল করিম রেজাসহ মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৭৪/২০২৬।
রানা মাসুদ অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের সোনাপুর ও রামভদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। মামলার পর পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাফিজ মোঃ রায়হান তাকে মুঠোফোনে জানান যে তার মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং থানায় এসে নিয়ে যেতে বলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, থানায় গেলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক ও আসামিপক্ষের লোকজন তার সামনে শর্ত জুড়ে দেন। শর্ত অনুযায়ী, অপহরণের বিষয়ে কোনো মামলা করা যাবে না এবং একটি না-দাবিনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। এরপরেই কেবল মেয়েকে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে বলে তাকে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে রানা মাসুদ বলেন, “আমি একজন পুলিশ সদস্য হয়েও আমার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় আমি কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”
তিনি আরও জানান, গত ১২ মে বগুড়া প্রেসক্লাবেও একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে মেয়েকে উদ্ধারে সাংবাদিক ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেনা সদস্য রেজাউল করিম রেজার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে চাকরিরত অবস্থায় আছি। অপহরণের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
অন্যদিকে, জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম বলেন, “মামলার কাগজপত্র আমাকে দিন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, একজন পুলিশ সদস্যের মেয়েকে ঘিরে এমন অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
মন্তব্য করুন