নিজেস্ব প্রতিবেদক-
১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মান্দারতলার সিরাজুল বিএনপির সরকার গঠন ও নিজ মূল্যায়নের অপেক্ষায়

দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও আজ নিজ দলেই অবহেলিত বোধ করছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মান্দারতলা এলাকার প্রবীণ বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম (৭৬)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যখন দল সাংগঠনিকভাবে ব্যস্ত সময় পার করছে, তখন তৃণমূলের এই পরীক্ষিত নেতা আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে উপেক্ষিত হওয়ায় গভীর মানসিক কষ্টে ভুগছেন।

সিরাজুল ইসলাম ১৯৯১ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করা এই রাজনৈতিক পথচলায় তিনি একনিষ্ঠভাবে দলের সঙ্গে ছিলেন। অন্তত চারবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৫০ সালে তৎকালীন যশোর জেলার (বর্তমান ঝিনাইদহ) মহেশপুর উপজেলার ১০নং নাটিমা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মান্দারতলা উত্তর বা বাজারপাড়ায় জন্ম তার। পিতা মৃত আলী মল্লিক ও মাতা হায়তুন্নেছার সন্তান সিরাজুল ইসলাম ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও সনদ গ্রহণ না করায় আনুষ্ঠানিকভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোরও প্রত্যক্ষ সাক্ষী তিনি।

আরো পড়ুন...  রামপালে ঘের নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৪

রাজনৈতিক জীবনে বহুবার নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। ফ্যাসিস্ট শাসনামলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা নাশকতা মামলা হয় এবং দীর্ঘ সময় তিনি বাড়িছাড়া থাকতে বাধ্য হন। ২০০৮ সালের পর নিয়মিত পুলিশি তল্লাশির কারণে বহু রাত তাকে বাড়ির বাইরে কাটাতে হয়েছে—অপরাধ একটাই, বিএনপির রাজনীতি করা।

তিনি সাবেক কৃষক দলের ইউনিয়ন সভাপতি হিসেবে টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া থানা পর্যায়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। প্রয়াত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মাস্টার ছিলেন তার রাজনৈতিক গুরু। তার মৃত্যুর পরও মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান রনির সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও আগের মতো মূল্যায়ন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তার।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে ২০০৫ সালে দুই দফায় বেগম খালেদা জিয়ার অনুদান পেয়েছিলেন তিনি। তৃতীয় দফা অনুদান পাওয়ার আগেই বিএনপি ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি।

বর্তমানে তিন ছেলে ও দুই মেয়ের সংসারে দিন কাটাচ্ছেন সিরাজুল ইসলাম। তার প্রধান প্রত্যাশা—২০২৬ সালে বিএনপির সরকার গঠন এবং নিজে ও তার মতো ত্যাগী নেতাকর্মীদের আজীবন অবদানের ন্যায্য মূল্যায়ন। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের এই অবহেলা তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা সৃষ্টি করছে, যা দলের জন্য শুভ নয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কোম্পানীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনের কারাদণ্ড

নলডাঙ্গায় পুকুরে ডুবে ৯ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

কালিহাতীতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে গুলি ও ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্বে তুষার-মিরন

সাপ হাতে নিয়েই হাসপাতালে রোগী

চকলেটের লোভ দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে, গ্রেপ্তার ১

সেনবাগে ১৪ মামলার আসামি গ্রেফতার

করতোয়া নদীতে আবারও মৃত্যু, শোকের ছায়া এলাকায়

তেঁতুলিয়া সীমান্তে ১৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ

আলীকদমে বন্যার্তদের পাশে ৫৭ বিজিবি, আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সহায়তা পেল ৮০ পরিবার

১০

খাগড়াছড়িতে এখনো পানিবন্দি সাড়ে ৩ হাজার পরিবার

১১

২৪ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই পশ্চিম হারলায়, বেহাল সড়কে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

১২

উখিয়ায় নারীর ভ্যানিটি ব্যাগে ১০ হাজার ইয়াবা

১৩

বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ, ডুবেছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি

১৪

আল-আজহারে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লো বাংলাদেশিদের

১৫

নলডাঙ্গায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

১৬

মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের কথিত মাস্টার এজেন্ট গ্রেফতার, জব্দ ৫ মোবাইল ও ৯ সিম

১৭

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে গোসল করতে নেমে কিশোর নিখোঁজ, চলছে উদ্ধার অভিযান

১৮

পানির নিচে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক, চন্দনাইশের পাঠানি ব্রিজ এলাকায় তীব্র যানজট

১৯

বদরগঞ্জে যমুনেশ্বরী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, বিএনপির সাবেক বহিষ্কৃত নেতাকে ঘিরে সমালোচনা

২০