নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে ছিলেন হাজারো মানুষ। সোনাপুর–আক্তার মিয়ার হাট সড়কটি খানাখন্দ, ভাঙন ও পানি জমে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও যানবাহন চালকদের।
এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি লাঘবে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসেন নাছির উদ্দীন নাছির। স্থানীয় এই রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব নিজের অর্থায়নে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে কেরামতপুর বাজার থেকে আক্তার মিয়ার হাট পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। শুরু থেকেই শ্রমিকদের নিয়ে মাটি ভরাট, গর্ত সমান করা ও চলাচলের উপযোগী করার কাজ চলতে থাকে। দীর্ঘদিন অবহেলিত সড়কটি মেরামত শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি শুধু একটি সাধারণ রাস্তা নয়, বরং এটি এলাকার হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই পথ দিয়ে স্কুল–কলেজে যাতায়াত করে, কৃষিপণ্য পরিবহন করা হয়, রোগীদের হাসপাতালেও নেওয়া হয় এই সড়ক দিয়েই। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না থাকায় বড় বড় গর্তে পানি জমে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত এবং যানবাহন চলাচল ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
একজন স্থানীয় দোকানদার বলেন, “বছরের পর বছর আমরা এই রাস্তার দুর্ভোগ ভোগ করেছি। বর্ষায় পানি, শুকনো মৌসুমে ধুলো—সব মিলিয়ে জীবন অতিষ্ঠ ছিল। এখন নিজ উদ্যোগে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছি।”
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগত। রাস্তাটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে অনেক সময় বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হতো।
এ বিষয়ে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, এ সড়কটি আমার জন্মভূমির মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। মানুষের কষ্ট দেখে বসে থাকতে পারিনি। তাই নিজের অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে সংস্কার কাজ শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, “এটা কোনো ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য নয়, এটি সম্পূর্ণ মানবিক দায়িত্ব থেকে করা উদ্যোগ। মানুষের চলাচলের কষ্ট লাঘব করাই আমার মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে আমি পাশে থাকবো।”
সংস্কার কাজ চলাকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও যদি এমন কাজ এগিয়ে আসে, তাহলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন আরও দ্রুত সম্ভব।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির স্থায়ী ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, এই অস্থায়ী সংস্কারের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেবে।
বর্তমানে সড়ক সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে এবং ধীরে ধীরে কিছু অংশে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন