খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বিশেষ করে দীঘিনালা উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরুং এলাকায় সেতু তলিয়ে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটির লংগদু সড়ক যোগাযোগ টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
এ সময় তিনি বলেন, “খাগড়াছড়ির বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে। দুর্গতদের জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। বর্তমানে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, জেলার প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি রয়েছে। এছাড়া প্রায় তিন হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। দুর্গত এলাকায় জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ত্রাণ ও রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুকূলে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে।
বন্যার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধানের চারা, বিভিন্ন সবজিক্ষেত ও ফলবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েকশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার কারণেই দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই সহযোগিতা ও সমন্বয় ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো মেরামত, কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং বন্যাকবলিত পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন