আমার উপজেলা, আমার দায়িত্ব—শিশুর জীবন হোক বাল্যবিবাহ ও স্কুলবহির্ভূত শিশু মুক্ত’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলাকে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও স্কুলবহির্ভূত শিশু মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, স্কুলবহির্ভূত শিশু ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইনসাদ ইবনে আমিন, রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রাজিব আল রশিদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতিমা শেফা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইমরান হোসেনসহ অন্যরা।
রামপাল থানার ওসি শেখ রাজিব আল রশিদ বলেন, কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৪২০ জন শিশু-যুব এবং ৪২ হাজার ১১ জন কমিউনিটি সদস্যকে ‘৫-জিরো’ বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৮ হাজার ৫৮০টি পরিবারের মধ্যে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুশ্রম বন্ধ এবং শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধে প্রচার ও অধিকারভিত্তিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি কৌশলগত স্থানে বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রায় ৮২ হাজার ১৫৭ জন মানুষকে সচেতন করা হয়েছে।
এ ছাড়া নাটক, র্যালি, গণসংযোগ, ক্রীড়া ও কিশোর-কিশোরী সেশনের মাধ্যমে সামাজিক আচরণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফুলি সরকার আরও জানান, ২ হাজার ২৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্যোগগ্রস্ত পরিবারকে মোট ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে সক্ষম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুলবহির্ভূত শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে ফিরে আসা শিশু ইমন ও তাওহীদ তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। বাল্যবিবাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করা কিশোরী নাঈমা আক্তারও তার অনুভূতি প্রকাশ করে।
এ সময় নাসিমা বেগম, খাদিজা বেগম ও রিনা বেগম ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় কীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, সে অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামপাল উপজেলাকে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও স্কুলবহির্ভূত শিশু মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেন। পরে তিনি উপস্থিত সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করান, ফলক উন্মোচন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
মন্তব্য করুন