রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় গর্ভধারিণী মাকে মারধর করে স্বামীর ভিটা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে মাজেদের বিরুদ্ধে। গত নয় মাস ধরে অসহায় ওই মা বিভিন্ন স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খালেদা বেগম ছেলে মাজেদের বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা বেগমের স্বামী আবদুল জব্বার মারা যাওয়ার পর থেকে ছেলে মাজেদ মায়ের সঙ্গে বেপরোয়া ও নিষ্ঠুর আচরণ করতে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, বাবার রেখে যাওয়া জমি জোরপূর্বক নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য তিনি মাকে চাপ দিতে থাকেন। জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানালে খালেদা বেগমকে মারধর ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
খালেদা বেগমের অভিযোগ, প্রায় নয় মাস আগে স্ত্রীর প্ররোচনায় মাজেদ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাজেদ কোনো সালিসে উপস্থিত হননি। এমনকি তিনি মায়ের কোনো খোঁজখবরও রাখেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
খালেদা বেগম বলেন, “গত ২০ জুলাই আমার স্বামীর রেখে যাওয়া জমিতে জোরপূর্বক চাষাবাদ করতে আসে মাজেদ। আমি বাধা দিলে সে আমাকে মারধর করে এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। আমি একজন বৃদ্ধা নারী। এই বয়সে কোথায় যাব? আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পলিপাড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মায়ের গায়ে হাত তোলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় রাজু নামে এক যুবক মাজেদকে উসকানিমূলক কথা বলে মায়ের ওপর নির্যাতনে প্ররোচিত করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মাজেদ মাকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল লতিফ বলেন, “মাজেদ কোনো বিচার-সালিস মানে না। এ কারণে খালেদা বেগমকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন