
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে সাইবার বুলিং ও অনলাইন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। তিনি অভিযোগ করেছেন, জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে ডা. মাহমুদা মিতু জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণের মাত্রা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার, চরিত্রহননমূলক প্রচারণা এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে—যা একজন রাজনৈতিক কর্মী হওয়ার পাশাপাশি একজন নারী হিসেবে তাকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব হেনস্তার পেছনে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির কর্মী-সমর্থকদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার দলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং অনলাইন আক্রমণের নৈতিক দায় এড়াতে পারেন না।
ডা. মাহমুদা আলম মিতুর ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলে তার সক্রিয় সাংগঠনিক ভূমিকা, মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং জামায়াত-সমর্থিত জোটের পক্ষে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যুক্ত হওয়াই তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণের অন্যতম কারণ। নির্বাচনী পরিবেশে নারী নেত্রীদের ভয় দেখানো ও মনোবল ভাঙার কৌশল হিসেবেই সাইবার বুলিং ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সাংগঠনিক টিমে ডেপুটি অর্গানাইজার হিসেবে দায়িত্ব পান ডা. মাহমুদা আলম মিতু। এ দায়িত্বে তিনি নোয়াখালী, বরিশাল, কুষ্টিয়া, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তাকে ঝালকাঠি-1 (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন পাওয়ার পর স্থানীয় উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হন তিনি। ৩০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তা বৈধ ঘোষিত হয়।
তবে দলীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও জামায়াত জোটের সমর্থনের প্রেক্ষাপটে ২০ জানুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপরও তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে জোটের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, “জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের নোংরা প্রচারণা ও সাইবার বুলিং ভয়াবহভাবে বেড়েছে। আমার প্রতি করা প্রতিটি হেনস্তা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের দায় যারা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না, তাদেরই নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ভয় পাই না। একজন নারী হিসেবে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই আমাকে এগোতে হবে। গণতন্ত্রে ভিন্ন মত থাকবে, কিন্তু মতের কারণে নারীদের এভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ডা. মাহমুদা আলম মিতু জানান, সাইবার সহিংসতার বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ও সামাজিকভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারী রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন