কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
গত ২২ এপ্রিল বুধবার বিকালে কুলিয়ারচর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিস কক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কেটে উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের উন্নয়নে নতুন প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছালাহ উদ্দিন (নান্টু)। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.কে.এম গজনবী এবং সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজ উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কুলিয়ারচর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আনোয়ার পারভেজ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজ মিয়া এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ ভূইয়া।
এসময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রিপন খান, জিয়াউল হাসান, এ.কে.এম জাবেদ কবির, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মোস্তফা কামালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের অব্যাহত অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পুরো আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত, যা উপস্থিত সকলের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনর্জাগরণের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন