বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের দারুল কোরআন ফজলুল করিম দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘ ৫১ বছরেও নির্মিত হয়নি কোনো পাকা ভবন। বর্তমানে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই পাঠদান চলছে ৩০০ শিক্ষার্থীর। প্রতিষ্ঠানটিতে নেই ছাত্রীদের জন্য আলাদা কমনরুম, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা কিংবা সুপেয় পানির সংস্থান। এতে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের কুমারিয়াজোলা গ্রামে ১৯৭৫ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরই শিক্ষার একমাত্র ভরসা। বর্তমানে শিক্ষকদের অফিস রুমসহ এখানে ১২টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ২০২৬ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে আরও একটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন।

মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষগুলোর অবকাঠামো ও টিনের বেড়া বর্তমানে অনেকটাই জরাজীর্ণ। কোথাও কোথাও বাঁশ ও কাঠের ওপর কোনোমতে টিনের বেড়া ঝুলিয়ে শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হয়েছে। বেড়ার বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র থাকায় বাইরে থেকে আলো-বাতাসের পাশাপাশি গবাদিপশু ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণী ঘরে ঢুকে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি জমে বই-খাতা ভিজে একাকার হয়ে যায়, ফলে বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান। এছাড়া প্রচণ্ড গরমে টিনশেড কক্ষে বসে ক্লাস করা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য চরম কষ্টকর হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো খেলাধুলার নির্দিষ্ট মাঠ।
শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার, ফারজানা আক্তার, মো. সিফাতুল্লাহ ও সুমা আক্তার জানায়, মাদ্রাসায় পড়াশোনার উপযুক্ত কোনো পরিবেশ নেই। ছাত্রীদের আলাদা কমনরুম ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভোগান্তিতে পড়ে। পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকায় দূর থেকে পানি এনে খেতে হয়। দ্রুত এই সংকট সমাধানের জোর দাবি জানায় তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন, শেফালী আক্তার রাখি, নাজমুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান জানান, মাদ্রাসায় যাতায়াতের প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হওয়ায় দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। দূরবর্তী ও যাতায়াত ব্যবস্থার এমন খরা দশায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও দিন দিন কমছে।
সহকারী সুপার আলী হাসান জোমাদ্দার, শিক্ষক মোস্তফা আল মামুন, ফজলুর রহমান এবং শিক্ষিকা সাহিদা খানম ও ফাতেমা আক্তার বলেন, জরাজীর্ণ ঘরে ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরম ও বর্ষাকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে না। তারা অবিলম্বে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দারুল কোরআন ফজলুল করিম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. বেল্লাল হোসাইন বলেন, “১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হলেও আজ পর্যন্ত বড় কোনো সরকারি অনুদান মেলেনি। ফলে অবকাঠামোগত অভাবে শিক্ষার গুণগত মান ও পরিবেশ দিন দিন বিঘ্নিত হচ্ছে।” তিনি দ্রুত একটি নতুন পাকা ভবন নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দারুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসার জরাজীর্ণ অবস্থা ও পাঠদানের সমস্যার বিষয়ে তিনি অবহিত আছেন। উপজেলার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এই মাদ্রাসায় পাকা ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা ও চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন